অনলাইন বা বিদেশের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও দ্রুত করতে বাংলাদেশে চালু রয়েছে ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট)। সাধারণ এমআরপি (MRP) পাসপোর্টের চেয়ে এতে থাকা বায়োমেট্রিক চিপ তথ্য সুরক্ষা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। আপনার ই-পাসপোর্ট আবেদন সহজ করতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো:
A tech-style Bangladesh e-passport placed beside a smartphone displaying an online passport application form with biometric security elements like fingerprint and iris scanners in the background.


১. আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Age-Wise Eligibility)

  • ২০ বছরের ঊর্ধ্বে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক।
  • ১৮ থেকে ২০ বছর: NID অথবা ১৭ ডিজিটের ইংরেজি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC)।
  • ১৮ বছরের নিচে: ১৭ ডিজিটের ইংরেজি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC) এবং পিতা-মাতার NID নম্বর।
  • অন্যান্য: পেশাগত সনদ (যেমন: ডাক্তার, প্রকৌশলী, সরকারি চাকরিজীবীদের NOC/GO) এবং বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন থাকলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট/নিকাহনামা।
💡 নোট: আবেদনের জন্য কোনো সত্যায়ন (Attestation) বা ছবির প্রয়োজন নেই।

২. আবেদন ও ডেলিভারির ধরন

ই-পাসপোর্টের পাতাসংখ্যা ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে ডেলিভারি সময় নির্ধারিত হয়:

  • রেগুলার (Regular): ১৫ কর্মদিবস।
  • এক্সপ্রেস (Express): ৭ কর্মদিবস।
  • সুপার এক্সপ্রেস (Super Express): ২ কর্মদিবস (নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দেওয়া সাপেক্ষে)।

💳 ই-পাসপোর্ট ফি তালিকা (১৫% ভ্যাটসহ)

১. ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি

মেয়াদ ডেলিভারির ধরন সময়সীমা ফি (ভ্যাটসহ)
৫ বছর রেগুলার (Regular) ১৫ কর্মদিবস ৪,০২৫ টাকা
এক্সপ্রেস (Express) ৭ কর্মদিবস ৬,৩২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস (Super Express) ২ কর্মদিবস ৮,৬২৫ টাকা
১০ বছর রেগুলার (Regular) ১৫ কর্মদিবস ৫,৭৫০ টাকা
এক্সপ্রেস (Express) ৭ কর্মদিবস ৮,০৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস (Super Express) ২ কর্মদিবস ১০,৩৫০ টাকা

২. ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি

মেয়াদ ডেলিভারির ধরন সময়সীমা ফি (ভ্যাটসহ)
৫ বছর রেগুলার (Regular) ১৫ কর্মদিবস ৬,৩২৫ টাকা
এক্সপ্রেস (Express) ৭ কর্মদিবস ৮,৬২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস (Super Express) ২ কর্মদিবস ১২,০৭৫ টাকা
১০ বছর রেগুলার (Regular) ১৫ কর্মদিবস ৮,০৫০ টাকা
এক্সপ্রেস (Express) ৭ কর্মদিবস ১০,৩৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস (Super Express) ২ কর্মদিবস ১৩,৮০০ টাকা
📌 কিছু জরুরি পরামর্শ ও নিয়ম:
  • ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হয়।
  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুবিধা: NOC বা GO থাকলে রেগুলার ফি জমা দিলেই পাবেন এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধা।
  • ফি পরিশোধ পদ্ধতি: A-Challan, ShurjoPay, DGePay, বিকাশের মাধ্যমে অনলাইন ফি দেওয়া যায় অথবা নির্দিষ্ট সরকার অনুমোদিত ব্যাংকে জমা দেওয়া যায়।

৩. আবেদনের ৫টি সহজ ধাপ

  1. অনলাইন ফরম পূরণ: মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে অফিশিয়াল পোর্টালে (epassport.gov.bd) তথ্য পূরণ করুন।
  2. ফি প্রদান: A-Challan, ShurjoPay, DGePay বা ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিন।
  3. বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট: নির্দিষ্ট তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি ও আইরিশ স্ক্যান দিন।
  4. স্ট্যাটাস চেক: আবেদনের পর পাওয়া Application ID বা Online Registration ID দিয়ে স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং করুন।
  5. পাসপোর্ট সংগ্রহ: ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট অফিস থেকে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।